কাস্টমাররা কোন জিনিস কিনার সময় বিবেক থেকে আবেগকে বেশি প্রধান্য দেয়। আর এই আবেগকে পুঁজি করে কোম্পানিগুলো তাদের বিজ্ঞাপন সাজায়। কাস্টমারকে শুধু ভালো জিনিস আর আবেগ দিয়ে বেশিদিন ধরে রাখা যায় না। ইমোশনালি কিছু দিতে হবে সারাজীবন রাখার জন্য।
মুনির হাসান স্যারের এই বইটির চারটি পর্বে তিনি প্রথমে ইমোশন ব্যাবহারের কয়েকটি কৌশল ও তার উদাহরণ দিয়েছে।
দ্বিতীয় পর্বে মার্কেটিং এ ইমোজি কিভাবে ব্যাবহার করা যায় তা বাতলে দিয়েছেন।
তৃতীয় পর্বে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের কেইস স্টাডি করে দেখিয়েছেন ; কিভাবে মার্কেটাররা ইমোশন ব্যাবহার করে আসছে ।
শেষ পর্বে ফেইসবুকে কিভাবে ইমোজির যথাযথ ব্যাবহার করবেন , তা বলছেন। ( এই পর্বটা কেমন যেন খাপছাড়া মনে হয়েছে)
পুরো বইটায় বিভিন্ন মজার উদাহরণ দিয়ে সব ব্যাপারগুলো ব্যাখ্যা করেছেন। উনার বইগুলোর এটাই সেরা দিক। কিভাবে ইমোশন, ইমোজি ব্যাবহার করে বাকিরা সফল হচ্ছে, ও আপনি কিভাবে হতে পারেন, তা অনেকটা তিনি হাতে কলমে দেখিয়েছেন।
যেমন –
১. সাবানের প্যাকে ১০০% হালার লাইনটি ব্যাবহার করে একটি কোম্পানি বিশাল মার্কেট দখল করেছে।
২.নস্টালজিয়ার কারণে পোকেমন গো গেইমটি রিলিজের পর পরই কয়েক মিলিয়ন ইউজার।
৩. হেল্পিং হ্যান্ড কমিউনিটি, চোখে পড়ার মত কালার ব্যাবহার করে পণ্যের মার্কেটিং।
৪. ইমোজিযুক্ত পোস্ট, বিজ্ঞাপনে এংগেইজমেন্টের হার কয়েকগুণ বেশি।
৫. পুরো দেশের আবেগকে প্রতিকায়িত করায় “ ইউর কান্ট্রি, মাই সিমেন্ট” বিজ্ঞাপনটি ৫ বছর পরেও এখনো আমাদের মুখে মুখে।
এরকম অসংখ্য বিজ্ঞাপন এনালাইসিস, তাদের ইউটিউব লিংক, ছবি সহ তথ্যে ভরপুর এই বই।
শুধু মার্কেটিং জানার জন্য না, আপনার আমার আবেগ কিভাবে কাজ করছে তা জানার জন্য হলেও সবার এটা পড়া উচিৎ।
বইটি দুইবার পড়বেন। প্রথমে টানা পড়বেন। পরের বার, লিংক দেয়া ভিডিও দেখে, চিন্তা করে ধীরে সুস্থে পড়বেন। নতুন নতুন আইডিয়া পাবেন।
বই – ইমোশনাল মার্কেটিং
কাস্টমারকে আজীবন ধরে রাখার উপায়
লেখক – মুনির হাসান
১২৫ পৃষ্ঠা, ২৬৭টাকা, আদর্শ প্রকাশনী





