আপনি কি জানেন আপনার এলাকায় মাসে কি পরিমাণ ক্যাশ ফ্লো হয় ? প্রতি মাসে আপনার এলাকার মানুষ কি পরিমাণ টাকা খরচ করে ?
কোনভাবে যদি লোকাল একটা বিজনেস দাঁড় করাতে পারেন, সে ক্যাশ ফ্লোর একটি অংশ আপনার কাছেও আসবে। আর এর জন্য দরকার একটা বিজনেস আইডিয়া।
আর কম রিস্ক, কম ইনভেস্ট এর জন্য লোকাল সার্ভিস বিজনেস পারফেক্ট। একবার সফলভাবে একটি সার্ভিস ব্যাবসা দাঁড় করাতে পারলে, ৯-৬ টা অব্দি চাকুরির জন্য আর দৌরানো লাগবেনা। এই বিজনেসের সুবিধা হলো অনেকবেশি কাস্টমার লাগেনা। অল্প কয়জনকে যদি রেগুলার সার্ভিস দেয়া যায়, ভালো ইনকাম আসবেই।
বিজনেস আইডিয়া কোথায় পাব ?
বিজনেস আইডিয়া মানেই বিশাল ইনভেস্ট করে যুগান্তকারী কিছু করে ফেলা না। আমাদের চারপাশে অনেক বিজনেস আইডিয়া ছড়িয়ে রয়েছে। আপনি ও আশেপাশের মানুষ কোন সমস্যা বা সার্ভিসের অভাব বোধ করছে, তা খুজে বের করে সমাধান করা নিয়ে বিজনেস দাঁড় করানো যায়। এর জন্য উবার বা অ্যামাজনের মত কোডিং করে এপস বানাতো লাগবেনা। তাছাড়া সার্ভিস বেইস বিজনেস চাহিদা দিন দিন বাড়ছেই।
যেমন, বাসা চেঞ্জ করার জন্য খুব বড় কোন কোম্পানি নেই। যা আছে সব ছোটখাট লিফলেট আর এলাকায় পরিচিত বলে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে কিন্তু বিশাল মার্কেট গ্যাপ রয়েছে। একটু আধুনিক টেকনোলজি ব্যাবহার করে সহজেই এসব মার্কেট দখল করা যাবে।
এই ধরুন লকডাউনে অনেকে বাড়ি চলে যাচ্ছিল, কিন্তু এত আসবাবপত্র কোথাও রাখার যায়গা নেই। এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে ঢাকার একটি স্টার্টআপ “রাখিব ডট কম”। যেখানে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে যে কোন জিনিস স্টোর করে রাখতে পারবেন।
কিভাবে অনেকগুলো বিজনেস আইডিয়া বের করব ?
বেশীভাগ শিক্ষিত মানুষ ঘরে বসেই কাজ করছে। যেমন ব্লগিং, অ্যাফিলিয়েট, স্যোশাল মিডিয়া মার্কেটিং, কোডিং ইত্যাদি। ফলে লো স্কিল জবগুলোয় গ্যাপ তৈরি হচ্ছে।
প্রথমেই আপনার কি স্কিল আছে ও সেসব দিয়ে কি ধরণের সার্ভিস দিতে পারবেন, তার লিস্ট করুন।
যেমন ধরুন বিভিন্ন হোম সার্ভিস প্রোভাইড কোম্পানির কথা। হাউজ ক্লিনিং, ফার্নিচার শিফটিং ইত্যাদি কাজের জন্য বড় কোন প্রতিষ্ঠান নেই। এরকম ১০-১২ টা সার্ভিস লিস্ট করুন।
কোন কোম্পানি কেমন সেসব সার্ভিস দেয়, তাদের তালিকা করুন।
কাস্টমার হিসেবে তাদের কল দিল।
A big business starts small
যদি দেখেন তারা ইজিলি কল ধরে, তাদের মার্কেটিং, ওয়েবসাইট ভালো, তারা যেকোন সময় আপনাকে সার্ভিস দিতে পারবে তাহলে সে আইডিয়া লিস্ট থেকে বাদ দিন। কারণ তাদের সার্ভিসের ডিমান্ড কম ,তাই তারা ফ্রি। এভাবে ট্রাই করতে করতে দেখবেন কোন না কোন সার্ভিস লেইটে কল ধরে বা দুই তিন সপ্তার জন্য বুকড, প্রাইস বেশী নিচ্ছে, আপনি সেই আইডিয়া নিয়ে কাজের চিন্তা করতে পারেন।
নতুন করে স্কিল বা কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করব কিভাবে ?
বেশিভাগ সার্ভিস প্রোভাইডারদের সমস্যা হলো প্রফেশনাল, শিক্ষিত ও প্রয়োজনীয় লোকের অভাব। সো, আপনি যদি কয়েকটা কোম্পানিকে কল দিয়ে কাজ করতে চান, কেউ না কেউ অবশ্যই আপনাকে কাজে নিবে। প্রয়োজনে ফ্রি তে তাদের সাথে কাজ করুন। এর ফলে আপনার বিজনেস এক্সপেরিয়েন্স, নেটওয়ার্ক বাড়বে। তাদের থেকে শিখে নিজের বিজনেসে তা এপ্লাই করতে পারবেন।
তাছাড়া ব্লগ, ইউটিউবে যেকোন টপিক এর টিউটরিয়াল দেখে শিখতে পারছেনই।
সার্ভিস বিজনেস আইডিয়া পাওয়ার পর এই দুটি প্রশ্ন ক্লিয়ার করতে হবে।
১. এই সার্ভিসের ডিমান্ড কি বাড়ছে ?
আমাদের দেশে যেহেতু এরিয়া ভিত্তিক বিজনেস নিউজ নাই, তাই নিজে থেকে খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে হবে।
একসময় বিল্ডিং এর কাজ সব দারোয়ান করত। এখন আস্তে আস্তে তা প্রফেশনাল হোম সার্ভিস প্রোভাইডার দিয়ে করানো হচ্ছে।
২. প্রতিদ্বন্দ্বীতা কেমন ?
আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কি দারাজ কিংবা স্বপ্ন ; নাকি পালকি হোম সার্ভিস(আমার এলাকার বাইরে যদিও কেউ চিনেনা) এর মতো স্যোশাল মিডিয়া ছাড়া শুধু লিফলেট, ডিরেক্ট কল দিয়ে কাজ চালানো কোন কোম্পানি ?
অপোনেন্ট চেনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।
প্রতিপক্ষ যাচাই
আপনার ১০ টি সম্ভাব্য আইডিয়া পাওয়ার পর এখন সময় হচ্ছে প্রতিপক্ষকে অ্যানালাইস করা। তারা কোন স্ট্র্যটেজি ফলো করছে তা বুঝা। এরজন্য মূলত ৩ টি দিককে প্রধান্য দিতে হবে।
সময়
সাধারণত সার্ভিস প্রোভাইড কোম্পানির কাস্টমার নিয়ে সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট, কর্মী আর প্রসেসিং। অতিরিক্ত কাস্টমার হ্যান্ডেলে তারা হিমশিম খায়। এসব সমস্যার কোন স্থায়ী সমাধান দিতে না পারায় তারা কাস্টমার হারায় আর নতুন কোম্পানিগুলোকে সুযোগ করে দেয়।
ডিজিটাল মার্কেটিং
অনেক কোম্পানির দেখা যায় অনলাইনে কোন বিজ্ঞাপন নাই, কোন ফেইসবুক পেইজ নেই , নেই কোন ওয়েবসাইট। ফলে তাদের বের করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার ।
দাম
এভেইলেভেল কোন প্রতিদ্ধন্ধী না থাকায় কোম্পানি গুলো অতিরিক্ত চার্জ করে। কাস্টমার হিসেবে তাদের প্রাইসিং জেনে নিয়ে , নিজেই হিসাব করতে পারবেন কতটুকু কম বা বেশী তারা চার্জ করছে।
কোন টাইপের কাস্টমার টার্গেট করব ?
মানুষ মনে করে প্রতিপক্ষ থেকে কম দামে দেয়ার মাধ্যমে কাস্টমার ধরে রাখা যাবে। ব্যাপারটা সবসময় এমন হয় না। সব কাস্টমারকেই দখল করার কোন মানে নেই। আপনার টার্গেট হবে এমন কাস্টমার, যারা দ্রুত, প্রফেশনাল সার্ভিস চায়। তুলনামূলক হয়তো কম কাস্টমার পাবেন কিন্তু যা পাবেন, সব সলিড।
কথা আছেনা “সস্তার তিন অবস্থা”।
“Sales go up and down, service stays forever”
অবশেষে ফাইনাল আইডিয়া বের হলো। এরপর ?
আইডিয়া ফাইনাল হলে সাথে সাথে কাজে নেমে পড়া উচিৎ। সার্ভিস প্রোভাইডের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস, কর্মী জোগাড় করে ফেলুন। বন্ধুবান্ধব, আশেপাশের লোকের হেল্প নিল প্রয়োজনে।
এরপর ডোমেইন হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট বানান,
ফেইসবুক পেইজ খুলুন,
গুগলে আপনার সার্ভিস, নাম্বার, মেইল এড করুন
শখানেক পোস্টার, ফ্লায়ার ছাপিয়ে প্রতিবেশী, এলাকার সবাইকে দিন।
আরো বেস্ট হয়, এলাকার যত বেশি মানুষের সাথে মিট করে বিজনেস সম্পর্কে জানানো যায় ও কার্ড দিয়ে দেয়া।
পাশাপাশি বিভিন্ন বিজনেস রিলেটেড পডকাস্ট, বই, আর্টিকেল পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করে নিতে পারেন। এসব কাজে একজন সহকারী/কো ফাউন্ডার নিলে কাজের গতি বাড়ে।
আপনার নতুন সার্ভিস বিজনেসের জন্য শুভকামনা।
সর্বশেষ টিপস
“Look up from your computer screen“
#See more at side hustle nation .





