লেখক – Malcolm Gladwell
Outliers বইতে লেখক বিখ্যাত মানুষদের সফলতার পিছনের কারণ তুলে ধরেছেন, যেখানে দেখা যায় বিভিন্ন ঘটনা, সঠিক সময় ও অফুরন্ত সুযোগই তাদের বিখ্যাত করে তুলেছে।
তিন লাইনে বইয়ের মুলভাব –
১.সফলতা ও এক্সিডেন্টের পিছনে অনেক পারিপাশ্বিক ব্যাপার থাকে
২. আপনার কখন এবং কোথায় জন্ম তা ম্যাটার করে ।
৩. সুদীর্ঘ অনুশীলনই ভাল এবং সেরার মধ্যে তফাৎ গড়ে দেয়।
সারসংক্ষেপ:
১. জন্মের সময়কাল সফলতার পিছনে প্রভাব ফেলে
যেসব খেলোয়ারদের জন্ম জানুয়ারি- মার্চ মাসের মধ্যে, তারা তুলনামূলক বেশি সফল হয়।
কারণ, স্কুল্গুলোতে খেলোয়ারদের টিম গঠন করা হয় জানুয়ারিতে। ফলে যারা একই বছরের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে যারা জন্মগ্রহন করেছে, তারা অন্যদের (অক্টোবর বা ডিসেম্বরে জন্মগ্রহনকারী) তুলনায় বেশী সময় পেয়েছে ; চিন্তাভাবনা ও শারিরীক বিকাশের জন্য। এই কয়েকমাসের ব্যাবধান অনেক তফাৎ গড়ে দেয়।

কম্পিউটার আবিষ্কারের সময়কালে এবং শিল্প বিপ্লবের সময় যাদের জন্ম, তারা আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে বেশি সুবিধা পেয়েছে। তাই তাদের সফল হওয়ার সুযোগ বেশি ছিল।যেমন বিল গেটস ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার নিয়ে ছিল। তখনকার সময় কম্পিউটার সহজলভ্য ছিলনা। নতুন প্রযুক্তি ব্যাবহারে সুযোগ তাকে তখনকার পিএইচডিধারীদের থেকেও বেশি জ্ঞানী করে তুলেছিল। স্টিভ জবস, বিল গেটস, পল অ্যালেনের জন্ম ১৯৫৪-১৯৫৬ এর মধ্যে।
কে জানে, এই সুযোগ না পেলে বিল গেটস বা স্টিভ জবসকে আমরা হয়ত চিনতামই না। অনেকে প্রফেশনালি বিখ্যাত হয়েছে শুধুমাত্র সঠিক সময়ে জন্ম নেয়ার কারণে।
২. ১০০০ ঘন্টার রুলস
এটি খুবই বিখ্যাত একটি তত্ত্ব। কোন কিছুতে এক্সপার্ট হতে চাইলে ১০০০ ঘন্টা সে বিষয় নিয়ে প্র্যাকটিস করতে হবে। অবশ্য যদি শুধুমাত্র কোন বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাহলে ২০ ঘন্টার চেষ্টাই যথেষ্ট।
বিটলস হ্যামবার্গ ক্লাবে সামান্য টাকার বিনিময়ে ১৯৬০-১৯৬২ সাল পর্যন্ত টোটাল ২৭০ রাত পারফর্ম করে। যার ফলাফলে তারা ১৯৬৩ সালে প্রথম সফলতার দেখা পায়।
কোন সেক্টরে ভাল থেকে অসাধারণ হতে হলে ১০০০ ঘন্টার অনুশীলনের বিকল্প নাই।
৩. লিমিট
একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যান্ত আপনার জন্মগত পাওয়া সুবিধাগুলো আপনাকে সাহায্য করবে। এর বেশী হলে তা আর কাজে আসেনা।
যেমন, হকি খেলায় উচ্চতা ৬.৭” এর কাছাকাছি হলে তা খেলোয়ারদের আলাদা সুবিধা দেয় । কিন্তু এর বেশি হলে তা আর কোন এক্সট্রা সুবিধা দিবেনা।
আইকিউ লেভেলেও একই ঘটনা। ১২০ এর বেশি হলে তা আর ফেভার করেনা।
হার্ভাড, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বাছাই করে শিক্ষার্থী নেয়া হয়। একাডেমিকভাবে তারা অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো রেজাল্টও করে । কিন্তু এরপর বাস্তবিক জীবনে যখন আসে, স্যোশাল স্কিল, নেটওয়ার্কিং সহ অন্যান্য স্কিলই বেশি ভূমিকা রাখে। আর যারা এসবে এক্সপার্ট তারাই সফল হয়।
এইজন্যই দেখা যায়, নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তদের বড় অংশের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নেই।
৪. জন্মস্থান
“Success is not a
random act“
বাংলা অথবা ইংরেজিতে ১০ এর পরে সংখ্যাগুলো সব নতুন নাম। কিন্তু কোরিয়ান বা চাইনিজে দশের পর এগার না বলে “দশ এক, দশ দুই…”এভাবে চলে। ফলে যোগ বিয়োগ শিখার সময় তারা অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকে।
এসব দেশের মানুষ কোন না কোনভাবে কৃষি কাজের সাথে জড়িত। আর কৃষিকাজ তাদের শৃঙ্খলা, ধৈর্য্যশীল পরিশ্রমী হতে শিক্ষা দেয়। তাইতো তারা ম্যাথ বা অন্য কোন সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকে।
৫. পরিবার
২০ শতকের শুরু দিকে নিউইয়র্কে অভিবাসী ইহুদীরা সেলাই ও পোষাক প্রস্তুতে দক্ষ ছিল। আর ঐ সময় নিউওইয়র্ক ছিল গার্মেন্টস পোষাক তৈরির কেন্দ্র। সঠিক স্কিল, সঠিক সময় ও সঠিক যায়গায় হাজির হওয়ার তারা ভাল চাকুরী পায় ও পরবর্তীতে তাদের বেশিভাগ প্রজন্ম ডাক্তার, উকিল সহ ভালো প্রফেশনে যায়।
১৯৩০ দশকে অর্থনৈতিক মন্দার কারনে জম্মগ্রহন হার কমে যায়। ফলে ঐসময় জন্মগ্রহনকারীদের চাকুরী ও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে বেশি প্রতিযোগিতা করা লাগেনি।
ধনী পরিবারে সন্তানরা পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিকভাবে সুযোগ বেশি পায়, যা তাদের সফলতায় ভূমিকা রাখে।
সর্বশেষ,
এখানে লেখক দেখিয়েছেন যে, ট্যালেন্ট ও পরিশ্রম ছাড়াও অন্যান্য সুবিধাসমুহ (জন্মস্থান ,সময়, পরিবার) কিভাবে একজন সাধারন মানুষকে সফল হতে সাহায্য করে।
আবার, কর্মক্ষেত্রে সবাইকে সমান গুরুত্ব না দেয়া, আবেগের সথিক প্রকাশ না দেখানোর কালচারের ফলে কিভাবে বড় দূর্ঘটনা হয়।
সফলতা ও ব্যার্থতার পিছনের নতুন নতুন সব ফ্যাক্টর জানার জন্য Malcolm Gladwell এর এই বিখ্যাত বইটি পড়তে পারেন।





