বর্তমান আমেরিকার ৯৬% মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে। দামী কয়েন থেকে শুরু করে বিশাল সব কন্টেইনার, সব তাদের হাতের কাছে। আর এই কেনাকাটার বড় অংশ হয় অ্যামাজনে।
কিন্তু যখন ঘরে বসে বাজার করার সুযোগ ছিলনা, আমেরিকার মার্কেট ছিল ওয়ালমার্টের দখলে। ব্যাস্ততম সড়কগুলোর পাশে স্টোর সাজিয়ে অবিশ্বাস্য কম মূল্যে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে তারা কাস্টমারদের আকৃষ্ট করত।
১৯৯৪ সাল।
৩০ বছর বয়সী এক স্বপ্নবাজ তার মোটা অঙ্কের বেতনের চাকুরী ছেড়ে ইন্টারনেটে বই বিক্রির পরিকল্পনা শুরু করে। এই পরিকল্পনা তাকে বিশ্ব ইকমার্স বাজারে রাজত্বের পথ দেখায়।
জেফ বেজোস তার ফ্যামিলিকে বুঝিয়ে বড় অঙ্কের টাকা ইনভেস্ট নিয়ে সিয়েটলে কাজ শুরু করেন। Cadabra, Relentless এর পর ফাইনালি Amazon.com নামে তার ইকমার্স জগতে যাত্রা শুরু করে।

অ্যামাজনের বিজনেস মডেল দেখে বিখ্যাত বই রিটেইলার বার্নস এন্ড নোবেল তাদের কিনতে চেয়ে ব্যার্থ হয় ও পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেখানেও সফল না হতে পেরে নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করে।
অ্যামাজনের মূল ফোকাস ছিল ভালো কাস্টমার সার্ভিস, যা তখনকার অনলাইন শপগুলো দিতে ব্যার্থ হয়। নতুনত্ব বজায় রাখতে তারা অন্যান্য সেক্টরে বিস্তার শুরু করে।
৯০ এর দশকের শেষের দিকে।
ওয়ালমার্ট তাদের ব্যাবসা সুন্দরভাবে চালিয়ে নিচ্ছে। নতুন নতুন শহরে স্টোর স্থাপন করে , কম দামে বিক্রি করে ভালো পজিশনে আছে। এই মুহূর্তে তাদের বিজনেস টেকনিক চেঞ্জ করার কোন প্রয়োজন দেখছেনা তারা।
কিন্তু বেজোস তার ওয়েবসাইটে বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য জিনিস যুক্ত করায় তার ওয়্যারহাউজের অবস্থা বাজে। এই সমস্যা সমাধানে সে ওয়ালমার্টের এক কর্মকর্তাকে হায়ার করে। এতে করে ভালোভাবেই সে ওয়ালমার্টের চোখে পড়ে।

২০০০ দশকের মাঝামাঝি সময়।
সম্প্রতি ওয়ালমার্ট নিজেদের গ্রোথ নিয়ে সমস্যায় পড়েছে। তারা এখনো সাকসেসফুল বাজারে । কিন্তু ব্যাড পাবলিসিটি, কর্মীদের আন্দোলন তাদের আয় কমিয়ে দিয়েছে। সেল বাড়ানোর জন্য অনেকেই ই-কমার্স সেক্টরে যাওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে ,যেটা ইচ্ছে করেই এতদিন তারা উপেক্ষা করছিল।
আর অ্যামাজন নতুন সার্ভিস চালু করেছে : অ্যামাজন প্রাইম, যা প্রাইম মেম্বারদের দুইদিনে প্রোডাক্ট ডেলিভারি করবে।
অনলাইন জগতে নতুন আসা ওয়ালমার্ট ইন্টারনেট কাস্টমারদের কাছে ব্যার্থ হয়ে অন্য পথে আগায়। বিভিন্ন ইকমার্স কোম্পানি কিনতে শুরু করে।
ওয়ালমার্টের মত অ্যামাজনও একই দিকে আগাচ্ছে। দুই জায়ান্টের যুদ্ধে অনেক ছোট ছোট রিটেইল নিঃশেষ হয়ে যায়।
বেজোস তার টার্গেট করা রিটেইলারের বিক্রি করা একই জিনিস অ্যামাজনে স্টোরে অনেক কম দামে বিক্রি করতে শুরু করে। এতে করে ঐ সাইটের মেম্বাররা এদিকে ঝুঁকে । আর তখন বাধ্য হয়ে সেসব রিটেইলারদের আমাজনের কাছে বিক্রি হয়ে যেতে হয়।
২০১৭ সালের দিকে অ্যামাজন ফ্রেশ ফুড সেক্টরে যাওয়ার প্ল্যান করে। এই সেক্টর অন্য সবের মত এত সহজ না। এজন্যে তারা অর্গানিক খাবার সাপ্লাইয়ার “Whole Food Market” কিনে নেয়। ১৩ বিলিয়ন ডলারে কেনা এই সেক্টরে খুব একটা লাভের মুখ দেখা যাচ্ছেনা। উল্টো কর্ম ছাটাই, আন্দোলন সহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ওয়েবসাইট কিনে ওয়ালমার্টও সুবিধা করতে পারছেনা। তাই তারা নিজের শক্তিশালী দিক, গ্রোসারিতে সেল বাড়ানো নিয়ে কাজ করছে। এখন কাস্টমাররা অনলাইনে জিনিস সিলেক্ট করে রাখবে, এবং স্টোরে এসে তা পিকাপ করে নিবে। ওয়ালমার্টের সব স্টোরই কাস্টমার থেকে মাত্র ১০-১৫ মিনিটের দূরত্ব হওয়ার ভালো সাড়া পাচ্ছে তারা ।

২০২০ সাল।
কাস্টমার বাগে আনার নানা টেকনিক জানা থাকলেও কিভাবে বৈশ্বিক মহামারীতে কাজ করতে হয় তা অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট কারোরই জানা নেই। ফলে অনলাইন, অফলাইন উভই স্টোরে সংকট, ডেলিভার সমস্যা ও কাস্টমার অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। যা অন্যান্য স্টোরগুলোর জন্য সুযোগ করে দেয়।
এটা দেখাই যাচ্ছে এই মহামারীতে মানুষজনের অনলাইন কেনাকাটা আরো বাড়ছে। গ্রোসারি সেক্টরে ওয়ালমার্ট আর অন্যান্য সেক্টরে অ্যামাজন এখনো ডমিনেট করে যাচ্ছে।
এখন সময়ই বলে দিবে মহামারী শেষে মানুষ কোন দিকে বেশি ঝুঁকে আর কে কোন ট্যাকটিক্স ব্যাবহার করে কাস্টমার দখল করে।
১৯৬২ সাল থেকে ওয়ালমার্ট সবার থেকে কম দামে জিনিস বিক্রি করে বাজার দখল করছে, আর, সাধারণ রিটেইলার মার্কেটছাড়া হচ্ছে।
অ্যামাজনও কম দামে বিক্রি করে অনলাইন মার্কেট দখল করছে , ফলে ছোট ছোট ইকমার্স শপগুলো কাস্টমারহীনতায় ভুগছে।

এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা,
বর্তমান সময়ে জেফ বেজোসের উদ্ভাবনী চিন্তাধারা মানুষকে ভিন্নভাবে চলতে শেখাচ্ছে। তার বই বিক্রি দিয়ে শুরু করা কোম্পানিটি এখন প্রায় সব ক্যাটাগরির কোম্পানির সাথে প্রতিদ্ধন্ধীতা করছে। তার কৌশল, মানসিকতা, নেতৃত্ব হাজারো মানুষকে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে উৎসাহিত করছে।
অ্যামাজন বনাম ওয়ালমার্টের যুদ্ধ বিস্তারিত জানতে মাত্র কয়েক পেইজের এই পিডিএফটি পড়ুন।





